বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২০

স্তন ক্যান্সারঃ


স্তন ক্যান্সারকে নারীদের নীরব ঘাতক বলা হয়। এই গোপন ব্যাধির শিকার হয়ে অনেক নারীকে মৃত্যুর সাথে লড়তে হয়। বিশ্বে প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরিসংখ্যানটি আসলেই ভয়াবহ এবং প্রতি ৩৬ জন আক্রান্ত নারীর মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা একজনের।
                                                                                        

স্তন ক্যান্সার আসলে এক ধরনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার, যেটি স্তনের কোষগুলো থেকে শুরু হয়।আর এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারটি হওয়ার কারণ কী, যা রূপ নেয় স্তন ক্যান্সারে, তা জানা জরুরি। তবে একাধিক কারণকে স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী করা হয়ে থাকে। আসুন জেনে নেই কারণগুলো—
 



১) ৩০ বছর বয়সের পরে যারা প্রথম মা হয়েছেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা একজন কমবয়সী মা হওয়া নারীর থেকে অনেক বেশি থাকে।
২) অতিরিক্ত মদ্যপান মেয়েদের স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। স্তন ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পেতে, অবশ্যই মদ্যপান ত্যাগ করা প্রয়োজন।
৩) অবিবাহিতা, সন্তানহীনা নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি থাকে।
৪) একইভাবে যারা সন্তানকে কখনো বুকের দুধ পান করাননি তাদের স্তন ক্যান্সার বেশি হয়।
৫) অল্প বয়সে বাচ্চা নিলে, দেরিতে পিরিয়ড শুরু হলে, তাড়াতাড়ি পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়ে যায়।
৬) একাধারে অনেক দিন জন্ম নিরোধ পিল খেলেও স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৭) মা-খালাদের থাকলে সন্তানদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৮) অস্বাস্থ্যকর ডায়েট স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণঃ

১) বেশিরভাগ রোগী বুকে চাকা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।
২) বুকে চাকা সেই সাথে কিছু কিছু রোগী ব্যথার কথাও বলে থাকে।
৩) স্তনের আকার ও আকৃতির পরিবর্তন হয়।
৪) স্তনের নিপল ভিতরের দিকে ঢুকে যায়।
৫) স্তনের বোঁটার চামড়া উঠতে থাকে।
৬) অনেক সময় যে বুকে ব্যথা সেদিকের হাত ফোলা নিয়েও আসতে পারে।
৭) এগুলো ছাড়াও স্তন ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে এমন উপসর্গ নিয়ে আসে যেমন: হাড়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস ইত্যাদি।

Ø কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারেঃ

*মেমোগ্রাম (Mammogram) বা স্তনের এক্স-রে
*ব্রেস্ট আলট্রাসাউন্ড (Breast ultrasound)
*ব্রেস্ট ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমাজিং (Breast magnetic resonance imaging, (MRI))
*বায়োপসি (Biopsy)
*রক্তের পরীক্ষা
*বুকের এক্স-রে
*কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফী স্ক্যান (Computerized tomography (CT) scan)
*পজিট্রন ইমিশন টমোগ্রাফী স্ক্যান (Positron emission tomography (PET) scan)

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসাঃ
স্তন ক্যান্সোরের চিকিৎসা নির্ভর করে স্তন ক্যান্সারের ধরণের উপর, ক্যান্সারের কোষগুলো হরমোণ সংবেদনশীল কিনা তার উপর। সম্ভব হলে সার্জারি করাই উত্তম। তাছাড়া কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপি, হরমোন থেরাপি ইত্যাদি।
Ø মনে রাখবেন প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিরূপণ করলে এবং চিকিৎসা করলে আপনি অনেক দিন সুস্থ থাকবেন। সার্জারি করার সময় টিউমারটি বগলে লসিকা গ্রন্থিসহ অপসারণ করলে এই রোগ আবার দেখা দেয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অসম্পূর্ণভাবে টিউমার অপসারণ করলে এই রোগ আবার হতে পারে। বর্তমানে এই সার্জারি টেকনোলজি অনেক উন্নতি লাভ করেছে যার ফলে এই রোগের চিকিৎসা খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। যদিও নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সার বেশি হয়। তবে সংখ্যায় কম হলেও পুরুষরাও কিন্তু এই রোগের ঝুঁকিমুক্ত নয়।
Ø ভারতে চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনো ধরণের প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে আমাদের সাথে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন।(মেডিকেল ভিসা , ডাক্তার এর এপয়েন্টমেন্ট, সেকেন্ড ওপিনিয়ন) 

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২০

লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন কী ?

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ । শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুস্থ লিভার। লিভারকে বলা হয় শরীরের পাওয়ার হাউস, যা জীবন-ধারণের জন্য অপরিহার্য। লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনে মানবদেহের অকার্যকর লিভার ফেলে নতুন লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়।

লিভার ট্রান্সপ্লান্ট এর প্রয়োজন কোন ধরণের রোগীর হয়ে থাকে ?
খুব স্বল্পমেয়াদী অথবা দীর্ঘমেয়াদী লিভার রোগের কারনে কোন ব্যক্তির যদি লিভারের কার্য ক্ষমতা হারিয়ে যায় তাহলে সেই ব্যক্তির লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বা প্রতিস্থাপনের কথা বিবেচনা করা হয়। লিভার ট্রান্সপ্লান্ট এর দরকার হয় যে সকল রোগের কারণে সেগুলি হলো - হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস জনিত সিরোসিস, প্রাইমারি বিলিয়ারি সিরোসিস, প্রাইমারি স্কেরোজিং কোলেনজাইটিস, শিশুদের বিলিয়ারি আটরেসিয়া (পিত্তনালী শুকিয়ে যাওয়া), মেটাবোলিক ডিজঅর্ডার ইত্যাদি। এছাড়াও ভাইরাস ইনফেকশন অথবা মদ্যপানের কারণেও অনেক সময় লিভার ফেইলিওর হলেও ট্রান্সপ্লান্ট   এর প্রয়োজন হতে পারে।                                                             
ট্রান্সপ্লান্ট এর জন্য লিভারের উৎস কি ?
সাধারণত দুটি উৎস থেকে দানকৃত লিভার নেওয়া হয়।

১) জীবিত ব্যক্তির দেহ থেকে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট (Deceased Donar Liver Transplant-DDLT):
• এ ক্ষেত্রে একজন জীবিত সুস্থ ব্যক্তি লিভারের একটি অংশ(ডান অথবা বাম দিক)তার কোন নিকট আত্মীয় কে দান করতে পারেন।

২) মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট (Deceased Donor Liver Transplant- DDLT):
• এ ক্ষেত্রে লিভারটি একজন ব্রেইন ডেথ (জীবনরক্ষাকারী সহায়তা সমূহ সরিয়ে নেবার পর, রোগীর যখন আর বেঁচে থাকার সম্ভবনা থাকে না) সেই সময় ঘোষিত রোগীর দেহ থেকে অপসারন করা হয়।

জীবিত লিভার দাতা কে হতে পারবেন ?
যে কোন জীবিত ব্যক্তি তার লিভারের একটি অংশ দান করতে পারে। ১৮-৬৫ বছরের কোন সুস্থ ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ যদি গ্রহিতার রক্তের গ্রুপের সাথে মিলে যায় তাহলে উনি তার লিভারের একটি অংশ ওই ব্যক্তিকে দান করতে পারবেন।দাতা হিসাবে কোন ব্যক্তির যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য লিভার ট্রান্সপ্লান্ট টিম, ওই ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন ল্যাবরেটরী টেস্ট করিয়ে থাকেন এবং এসব ক্ষেত্রে দাতার শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।
লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি কিভাবে করা হয় ?
দুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অপারেশন থিয়েটারে অভিজ্ঞ দুইদল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন কাজ করে। এই সময় লিভারের রক্ত সরাবরাহ যন্ত্রের সাহায্যে সেই রক্ত দেহের অন্যন্য অঙ্গে প্রভাবিত করা হয়। অপর দলটি দাতার দেহ থেকে সুস্থ লিভারের অংশ বিশেষ অপসারন করে তা প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করে থাকেন। এরপর দানকৃত লিভারের অংশ রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়।


শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

কিডনি রোগের কী কী লক্ষণ দেখা যায়ঃ


১) প্রস্রাবে পরিবর্তনঃ

কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হওয়া। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি হয় বা কম হয়। বিশেষত রাতে এ সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব হলেও প্রস্রাব হয় না।
২) প্রস্রাবের সময় ব্যথাঃ

প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। মূলত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাভাব এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ। যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।


৩) প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়াঃ

প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ।




৪) ত্বকে র‌্যাশ হওয়াঃ

কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে রক্তে বর্জ্য পদার্থ বাড়তে থাকে। এটি ত্বকে চুলকানি এবং র‌্যাশ তৈরি করতে পারে।

৫) বমি বমি ভাবঃ

রক্তে বর্জ্য পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনি রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

৬) ছোট ছোট শ্বাসঃ

কিডনি রোগে ফুসফুসে তরল পদার্থ জমা হয়। এ ছাড়া কিডনি রোগে শরীরে রক্তশূন্যতাও দেখা দেয়। এসব কারণে শ্বাসের সমস্যা হয়, তাই অনেকে ছোট ছোট করে শ্বাস নেন।

৭) পেছনে ব্যথাঃ

কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয়। এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।

৮) দেহে ফোলা ভাবঃ

কিডনি শরীর থেকে বর্জ্যপদার্থ ও বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।

৯) কোনো কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়াঃ

লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।

১০) সবসময় শীত বোধ হওয়াঃ

কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।


ভারতের সেরা হাসপাতালের কিদনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঠিক পরামর্শ নিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।



শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

কিডনি সুস্থ রাখে যেসব খাবারঃ

বর্তমান সময়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে কিডনি রোগের সমস্যা।আমাদের নিজেদের কিছু অসতর্কতার জন্যই দেখা দেয় এই ধরণের সমস্যা যা পরবর্তীতে কিডনি ড্যামেজের কারণ হয়ে দাড়ায়। তবে কিছু খাবার আছে যা কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে। এই খাবারগুলো নিয়মিত খেলে কিডনি রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। আসুন জেনে নেই সেই খাবারগুলো সম্পর্কে।


১) আপেলঃ

আপেল হচ্ছে উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, এতে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি আছে যা খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে হৃদ রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। এছাড়াও এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। আপেল কাঁচা বা প্রতিদিন এক গ্লাস আপেলের জুস করে খাওয়া কিদনির জন্য অনেক উপকারি।


২) ডিমের সাদা অংশঃ

ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস এবং অ্যামিনো এসিড আছে যা কিডনি রোগ প্রতিরোধ করে কিডনিকে সুস্থ রাখে। ডিম সিদ্ধ করে বা অমলেট করে খাওয়া যেতে পারে।

৩) মাছঃ


২০০৮ সালে প্রকাশিত আমেরিকান জার্নাল অফ কিডনি ডিজিসের মতে, মাছ দেহে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। মাছে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে যা প্রদাহ হ্রাস করে এবং কিডনিকে সুস্থ রাখে।

৪) লাল ক্যাপসিকামঃ
লাল ক্যাপসিকামে পটাশিয়াম কম পরিমাণে থাকে তবুও এটি কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন সি, এ, ভিটামিন বি সিক্স, ফলিক এসিড, ও ফাইবার রয়েছে। এছাড়া লাইকোপেন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। রান্না বা সালাদ হিসেবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লাল ক্যাপসিকাম খেতে পারেন।

৫) বাঁধাকপিঃ

বাঁধাকপি কিডনি ফাংশন উন্নত করে থাকে। এতে রয়েছে ভিটামিন বি সিক্স, সি, কে, ফাইবার, ফলিক অ্যাসিড। এটি শরীরের পটাসিয়ামের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। রান্না করে খেতে পারেন সালাদ করেও খাওয়া যেতে পারে।

৬) পেঁয়াজঃ

কিডনিকে সুস্থ রাখার আরেকটি অন্যতম উপাদান হল পেঁয়াজ। এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনোয়েড রয়েছে যা রক্তের চর্বি দূর করে থাকে। এছাড়া এতে কুয়ারসেটিন আছে যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে থাকে। পেঁয়াজে প্রোটিন, পটাশিয়াম আছে যা কিডনির জন্য অনেক বেশি উপকারী।

৭) রসুনঃ

রসুন ইনফ্লেমেটরি এবং কোলেস্টেরল কমাতে অনেক বেশি কার্যকরী। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আছে যা দেহের প্রদাহ দূর করে থাকে। তবে রান্না করে খেলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় না। ভাল হয় সকালে খালি পেটে কাঁচা রসূন খাওয়া, এটি হার্ট ভাল রাখার পাশাপাশি কিডনিকেও ভাল রাখে।


8) অলিভ অয়েলঃ

অলিভ অয়েল হৃদস্বাস্থ্য সুস্থ রাখার পাশাপাশি কিডনিও ভালো রাখে। এতে প্রচুর পরিমাণ ওলিক অ্যাসিড এবং অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা অক্সিডেসন কমিয়ে কিডনি সুস্থ রাখে।এটিও রান্নায় বা সালাদে ব্যবহার করা যেতে পারে।


বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৯

হার্ট অ্যাটাক একটা মানুষের কখন হয় ?

   আমাদের অনেকের মধ্যে এই ধারনা যে, মানুষের বয়স বাড়লে , মোটা হলে বা দুশ্চিন্তা করলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। কিন্ত, এটা ভুল ধারণা যে কোন সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। বিশ্রামের সময়, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ,ভারী কায়িক শ্রমের জন্য, কখনো ঠান্ডা আবহাওয়ায় বের হলে, ইমোশনাল স্ট্রেসের জন্য, কখনো আবার বেশি হাটা চলার মধ্যেও হয়ে থাকে।


হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা কি করা উচিৎঃ

অনেক সমায় হার্ট অ্যাটাক মানুষকে ১০ সেকেণ্ড সময় ও দেয় না, যার ফলে অ্যাটাক হওয়ার সাথে সাথে অধিকাংশ সময় মানুষ মারা যান, কারণ একা থাকার দরুন এটা হয়ে থাকে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বুকের ওপর পাম্প করে হৃদযন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন করতে হয় যেটা কোন ব্যাক্তির সাহায্য ছাড়া সম্ভব না। আর এই অবস্থায় বুকে ব্যথার শিকার ব্যক্তি নিজেকে সাহায্য করতে পারেন বার বার জোরে জোরে উচ্চস্বরে কাশি দিয়ে। শ্বাস – কাশি…’ এই প্রক্রিয়া প্রতি দুই সেকেণ্ডে একবার করে করতে থাকুন, যতক্ষণ না পর্যাপ্ত অক্সিজেন হৃদযন্ত্র কে সংকোচন-প্রসারণ করে একাই স্বাভাবিকভাবে স্পন্দিত হতে থাকে।

হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বুঝতে পারলে তখনি এসপিরিন বা ওয়ারফেরিন ফর্মূলার ওষুধ খাওয়াতে হবে এতে রক্ত জমাট বাঁধতে পারবেনা আর নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে জিহবার নিচের অংশে করতে হবে। হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাহস দিতে হবে, না হলে তারা নিজের দিক থেকে অনেকটা ভেঙে পরে, যেটা পরবর্তীতে খারাপ হতে পারে।



হার্ট অ্যাটাক প্রতিকারে কি করণীয়

– যেসব কারণে রক্তনালীর আবরণ ফেটে যায়, সে রকম কাজ থেকে বিরত থাকুন

– নিয়মিত হাঁটা চলা ও হালকা ব্যায়াম করুন

– যাদের বয়স ৪০ বছর পার হয়ে গেছে তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি, তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজন মত অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খেতে থাকলে রক্ত জমাট বাধার প্রবণতা কমে যায়

– কোলস্টেরল কমানোর ওষুধগুলো রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা কমানো ছাড়াও রক্তনালির ওপর জমে থাকা চর্বি পরিষ্কার করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়

– দুশ্চিন্তা না করা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখা

– ধুমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকা

– প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি ও ফল-মূল খাওয়া, এছাড়াও নিয়মিত কাঁচা রসুন খেতে পারেন